শিক্ষায় ও চরিত্রগঠনে খেলাধুলাে | মানস মানচিত্র অবলম্বনে বাংলা প্রবন্ধ রচনা

শিক্ষায় ও চরিত্রগঠনে খেলাধুলাে – মানস মানচিত্র অবলম্বনে বাংলা প্রবন্ধ রচনা

শিক্ষায় ও চরিত্রগঠনে খেলাধুলাে

উত্তর:

শিক্ষায় ও চরিত্রগঠনে খেলাধুলাে

“Play is nature’s method of preparing mind and body” –Emerson
খেলাধুলাে মানুষের দেহের ক্লান্তি দূর করে মনে আনে আনন্দ, দেহ করে সজীব, কর্মে দেয় উৎসাহ। কর্মময় মানুষের জীবনে কর্মপ্রবাহ অব্যাহত রাখতে তাই খেলাধুলাের প্রয়ােজনীয়তা অনস্বীকার্য। প্রাচীনকালে গুরুগৃহে অধ্যয়নই ছিল ছাত্রদের একমাত্র তপস্যা। তারা এখনকার মতাে তেমনভাবে খেলাধুলাের সুযােগ পেত না। তবে তারা যােগব্যায়াম, প্রাণায়াম, দেহচর্চা ইত্যাদি করত। এসবের মধ্যে দিয়েই তারা দেহকে সুস্থ-সবল ও মানসিকতাকে নির্মল রাখার চেষ্টা করত। এরপর ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশরাজ ভারতবর্ষে যে শিক্ষাধারার প্রবর্তন করছিল, তাতে শিক্ষার থেকে শরীর গঠনের বিষয়টিকে একেবারে বাতিল করে দেওয়া হল। স্বাধীনতার পরই খেলাধুলাে শিক্ষার অত্যাবশ্যক অঙ্গ হিসেবে ঘােষিত হয়।

খেলাধুলাে শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ। খেলাধুলাে শিক্ষার্থীর দৈহিক উৎকর্ষ সাধনের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক উৎকর্ষ সাধন করে। শিশুমন স্বভাবতই চঞ্চল। তাই বিদ্যালয়ে বুটিনবাঁধা পড়াশােনার মধ্যে খেলাধুলাের ব্যবস্থা রাখা খুবই জরুরি। খেলাধুলােই শিক্ষার্থীদের কাছে সবথেকে আনন্দের বিষয়। যেসব শিক্ষার্থী সর্বক্ষণ কেবল পড়াশােনার মধ্যে নিমগ্ন থাকে, কোনােরূপ খেলাধুলাে করে না, তারা কখনও মেধাবী হতে পারে না। কারণ। শরীর সুস্থ ও সবল না হলে মনও সুস্থ ও সবল হয় না। ফলে মনােযােগ সহকারে কোনাে কাজই করা যায় না। তাই শিক্ষা ও খেলাধুলাে পরস্পরের শুধু পরিপূরকই নয়, এরা অভিন্নও বটে।

খেলাধুলাের মধ্যে দিয়ে শিশুর বুদ্ধির বিকাশ ঘটে। আমরা পরস্পরের সঙ্গে সহযােগিতার শিক্ষা এর মাধ্যমেই লাভ করি। খেলাধুলাে থেকে আমরা সাফল্য ও অসাফল্য, জয় ও রাজয় উভয়কেই সমানভাবে গ্রহণ করার মহৎ শিক্ষা অর্জন করি। খেলাধুলাের মাধ্যমেই আমাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা, সময়ানুবর্তিতা, ঐক্যবোেধ, একাগ্রতা, দৃঢ়তা জাগরিত হয়— যা ভবিষ্যৎ সুস্থ জীবনের জন্য অপরিহার্য।

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলাধুলাে ও শরীরচর্চা একটা গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে রয়েছে। এখন প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলাধুলাের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যালয়ে ব্রতচারী, যােগব্যায়াম, লাঠিখেলা প্রভৃতি যেমন করানাে হয়, তেমনি নির্দিষ্ট ঋতু অনুযায়ী ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ব্যাডমিন্টন প্রভৃতি খেলারও আয়ােজন করা হয়। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সঙ্গে এইসব খেলায় ছাত্রছাত্রীরা বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযােগিতায় অংশগ্রহণ করে। তা ছাড়া, প্রতিটি বিদ্যালয়ে শীতকালে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযােগিতা হয় এবং সেই সময় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অভূতপূর্ব আনন্দ ও উৎসাহের সাড়া পড়ে যায়।

সুতরাং শৈশব ও কৈশাের জীবনে খেলাধুলাের প্রয়ােজনীয়তা আছে। তাইতাে সমগ্র বিশ্বে আজ শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে খেলাধুলােকে অভিন্ন করে দেখা হচ্ছে। বিবেকানন্দ একবার বলেছিলেন যে, গীতা পাঠে নয়, ফুটবল খেলার দ্বারা আমরা ঈশ্বরের কাছাকাছি যাব। জীবনে খেলার গুরুত্ব যে কতটা এ কথাই তা প্রমাণ করে।

আরো পড়ুন

বিশ্ব উষ্ণায়ন | মানস মানচিত্র অবলম্বনে বাংলা প্রবন্ধ রচনা

র‍্যাগিং এবং ছাত্র সমাজ | মানস মানচিত্র অবলম্বনে বাংলা প্রবন্ধ রচনা

এ জীবন চলতে চলতে | মানস মানচিত্র অবলম্বনে বাংলা প্রবন্ধ রচনা

ভ্রমণের মুল্য | মানস মানচিত্র অবলম্বনে বাংলা প্রবন্ধ রচনা

ভারতে অনূধর্ব সতেরাে বিশ্বকাপ ফুটবল | মানস মানচিত্র অবলম্বনে বাংলা প্রবন্ধ রচনা

Read More »

Note: এই আর্টিকেলের ব্যাপারে তোমার মতামত জানাতে নীচে দেওয়া কমেন্ট বক্সে গিয়ে কমেন্ট করতে পারো। ধন্যবাদ।

Leave a Comment