প্রশ্ন: অযৌন জনন কাকে বলে ? অযৌন জননের পদ্ধতিগুলি সংক্ষেপে আলােচনা করাে।
উত্তর:
অযৌন জনন : যে জনন প্রক্রিয়ায় গ্যামেট উৎপাদন ছাড়াই রেণু তৈরির মাধ্যমে বা দেহকোশ বিভাজনের মাধ্যমে অপত্য জীবের সৃষ্টি হয়, তাকে অযৌন জনন বলে।
অযৌন জননের পদ্ধতিগুলি হলাে :
বিভাজন : এই পদ্ধতিতে এককোশী জীব বিভাজিত হয়ে দুটি বা অনেকগুলি অপত্য উৎপন্ন করে। এটি দুই প্রকারের হয়।
1. দ্বিবিভাজন : এই পদ্ধতিতে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য উৎপন্ন হয়।
উদাহরণ : অ্যামিবা।
2. বহবিভাজন : প্রতিকূল পরিবেশে মাতৃকোশের নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে অসংখ্য অপত্য উৎপন্ন হয়।
উদাহরণ : প্লাজমােডিয়াম
কোরকোদগম : এই পদ্ধতিতে মাতৃজীবের দেহের বাইরে উপবৃদ্ধি বা বাড বা কোরক গঠিত হয়। কোরকের বৃদ্ধি হলে মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনভাবে জীবনজাপন করে। এই পদ্ধতিকে কোরকোদগম বা বাডিং বলে।
উদাহরণ : হাইড্রা, ইস্ট ইত্যাদি।
খণ্ডীভবন : স্পাইরােগাইরা জলজ শৈবাল কোনাে কারণে একাধিক খণ্ডে খণ্ডিত হলে প্রতিটি খণ্ডক থেকে স্পাইরােগাইরা সৃষ্টি করে।
রেণু উৎপাদন :মস, ফার্ণ, ছত্রাক ইত্যাদি উদ্ভিদের দেহে রেণুস্থলীতে অসংখ্য রেণু উৎপন্ন হয়। রেণুগুলি পরে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে।
পুনরুৎপাদন : দেহের কোনাে কাটা অংশ বা খণ্ডাংশ থেকে নতুন অপত্য সৃষ্টি হওয়ার পদ্ধতিকে পুনরুৎপাদন বলে।
উদাহরণ : প্লানেরিয়া, হাইড্রা ইত্যাদি।
Note: এই আর্টিকেলের ব্যাপারে তোমার মতামত জানাতে নীচে দেওয়া কমেন্ট বক্সে গিয়ে কমেন্ট করতে পারো। ধন্যবাদ।