Class 10 Class 10 Bengali অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর | Asukhi Ekjon Kobita Question Answer | Class 10 | Wbbse

অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর | Asukhi Ekjon Kobita Question Answer | Class 10 | Wbbse

অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর, Asukhi Ekjon Kobita Question Answer, মাধ্যমিক ফাইনাল পরীক্ষায় যাতে তোমরা ভালো ফল লাভ করতে পারো, সেই জন্য আমরা এখানে ক্লাস ১০ বাংলা দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর (ছোট বড় সব) নিয়ে এসেছি।

অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর | Asukhi Ekjon Kobita Question Answer | Class 10 | Wbbse

অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর, Asukhi Ekjon Kobita Question Answer – এখানে আমরা মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে অসুখী একজন কবিতার ছোট বড় সব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর নিয়ে এসেছি। এই প্রশ্ন উত্তর গুলি তোমরা ভালোভাবে অধ্যয়ন করলে পরীক্ষায় অনেক ভালো রেজাল্ট করতে পাবে। অভিজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা এই নোটগুলি প্রস্তুত করা হয়েছে। বাকি অধ্যায়গুলি থেকে নোট্‌স পেতে এই লিঙ্কে ক্লিক করো

বিঃদ্রঃ –এই পোস্টটিতে আগে খুবই কম প্রশ্নোত্তর দেওয়া ছিল। ২০২৫ সালে আমরা আবার নতুন করে অধ্যায় থেকে খুঁটিয়ে বাকি সমস্ত প্রশ্নোত্তরগুলি Update করে দিলাম।

অসুখী একজন

পাবলাে নেরুদা

বহু নির্বাচনী, অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর


১. অসুখী একজন’ কবিতায় যে বাদ্যযন্ত্রটির উল্লেখ আছে—
(ক) বীণা
(খ) জলতরঙ্গ
(গ) বাঁশি
(ঘ) তানপুরা
উত্তর- (খ) জলতরঙ্গ

২. কথক বিদায় নেওয়ার পর কয়টি সপ্তাহ/বছর কাটার কথা বলা হয়েছে?
(ক) অসংখ্য
(খ) একটা
(গ) হাজার
(ঘ) হাজার হাজার
উত্তর- (খ) একটা

৩. “সে জানত না”—সে কী জানত না ?
(ক) কথক তাকে ছেড়ে দূরে চলে যাবে
(খ) কথক আর কখনাে ফিরে আসবে না।
(গ) ভয়ঙ্কর যুদ্ধ শুরু হবে
(ঘ) তার মৃত্যু হবে না
উত্তর- (খ) কথক আর কখনাে ফিরে আসবে না।

৪. “বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল”—বৃষ্টি ধুয়ে দিয়েছিল—
(ক) পায়ের দাগ
(খ) রক্তের দাগ
(গ) পথের ধুলাে
(ঘ) কাঠকয়লার দাগ
উত্তর- (ক) পায়ের দাগ

৫. অপেক্ষারতা মেয়েটির মাথার উপর বছরগুলাে নেমে এসেছিল—
(ক) ঘূর্ণিঝড়ের মতাে
(খ) রক্তের আগ্নেয় পাহাড়ের মতাে
(গ) যুদ্ধের মতাে
(ঘ) পর পর পাথরের মতাে
উত্তর- (ঘ) পর পর পাথরের মতাে

৬. শান্ত হলুদ দেবতারা ধ্যানে ডুবে ছিল—
(ক) কয়েক যুগ।
(খ) হাজার হাজার বছর।
(গ) হাজার বছর
(ঘ) সহস্র বছর।
উত্তর- (গ) হাজার বছর

৭. মিষ্টি বাড়িটির কোথায় ঝুলন্ত বিছানাটি ছিল?
(ক) ছাদে
(খ) উঠোনে
(গ) বারান্দায়
(ঘ) গােলাপি গাছের পাশে
উত্তর- (গ) বারান্দায়

৮. কথক বিদায় নেওয়ার সময় অপেক্ষারতা মেয়েটি দাঁড়িয়েছিল
(ক) রাস্তায়
(খ) যুদ্ধক্ষেত্রে
(গ) বারান্দায়
(ঘ) দরজায়
উত্তর- (ঘ) দরজায়

৯. অসুখী একজন’ কবিতায় দেবতাদের বিশেষণ দেওয়া হয়েছে—
(ক) মৃত
(খ) শান্তশিষ্ট
(গ) শান্ত হলুদ
(ঘ) ধ্যানমগ্ন
উত্তর- (গ) শান্ত হলুদ

১০. তারপর যুদ্ধ এল’—যুদ্ধ এসেছিল—
(ক) লাভা ভর্তি আগ্নেয়গিরির মতাে
(খ) মৃত্যুর মতাে
(গ) রক্তের এক সমুদ্রের মতাে
(ঘ) রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতাে
উত্তর- (ঘ) রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতাে

১১. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় মৃত্যু হয়নি—
(ক) গ্রামের
(খ) মেয়েটির
(গ) শিশুদের
(ঘ) দেবতাদের
উত্তর- (খ) মেয়েটির

১২. অসুখী একজন’ কবিতায় যে কালাে দাগটির কথা বলা হয়েছে, তা হল—
(ক) কয়লার
(খ) বেদনার।
(গ) রক্তের
(ঘ) শােকের
উত্তর- (গ) রক্তের

১৩. অসুখী একজন’ কবিতায় উল্লেখিত বীভৎস মাথাগুলি’ ছিল—
(ক) মৃত শিশুদের
(খ) মৃত মেয়েটির
(গ) ধ্যানমগ্ন দেবতাদের
(ঘ) মৃত পাথরের মূর্তির
উত্তর- (ঘ) মৃত পাথরের মূর্তির

১৪. একটা সপ্তাহ আর ____________ কেটে গেল।
(ক) একদিন
(খ) একমাস
(গ) একটা বছর
(ঘ) একটা যুগ
উত্তর- (গ) একটা বছর

১৫. যেখানে ছিল শহর/ সেখানে ছড়িয়ে রইল—
(ক) পায়ের দাগ
(খ) কাঠ কয়লা
(গ) ধুলােবালি
(ঘ) ছাই
উত্তর- (খ) কাঠ কয়লা

১৬. পাবলাে নেরুদা ছিলেন—
(ক) রাশিয়ান কবি ও সৈনিক।
(খ) চিলিয়ান কবি ও রাজনীতিবিদ
(গ) জার্মান কবি ও গায়ক।
(ঘ) আফ্রিকান কবি ও সৈনিক
উত্তর- (খ) চিলিয়ান কবি ও রাজনীতিবিদ

১৭. পরপর পাথরের মতাে নেমে এল—
(ক) বােমারু বিমান।
(খ) কাঠকয়লা
(গ) আগুন
(ঘ) বছরগুলাে
উত্তর- (ঘ) বছরগুলাে

১৮. অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে’—দাঁড় করিয়ে রাখলেন—
(ক) গির্জায়
(খ) মন্দিরে
(গ) দরজায়
(ঘ) জানালায়
উত্তর- (গ) দরজায়

১৯. অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে দরজায়’—কথক দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন—
(ক) গির্জার নানকে
(খ) শিশুদেরকে
(গ) মেয়েটিকে।
(ঘ) মা-কে
উত্তর- (গ) মেয়েটিকে।

২০. উল্টে পড়ল মন্দির থেকে টুকরাে টুকরাে হয়ে’—কারা উলটে পড়েছিল ?
(ক) মন্দিরের চূড়া
(খ) শান্ত হলুদ দেবতারা
(গ) পূজার বেদী।
(ঘ) জলতরঙ্গ
উত্তর- (খ) শান্ত হলুদ দেবতারা

২১. ঘাস জন্মালাে’—কোথায় ?
(ক) উঠনে
(খ) মন্দিরে
(গ) রাস্তায়
(ঘ) মাঠে
উত্তর- (গ) রাস্তায়

অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর | Asukhi Ekjon Kobita Question Answer

১. ‘আমি তাকে ছেড়ে দিলাম — ‘আমি’ কে?
উত্তর:
চিলির কবি পাবলো নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন’ কবিতায় আমি বলতে কবিতার কথক বা কবি স্বয়ং নিজেকেই বুঝিয়েছেন।

২. “শিশু আর বাড়িরা খুন হল”—শিশু আর বাড়িরা কেন খুন হয়েছিল?
উত্তর : ভয়ঙ্কর যুদ্ধের তাণ্ডবে সমগ্র সমতলে আগুন ধরে যায়। আর তাতেই খুন হয় শিশু আর বাড়িরা।

৩. “সমস্ত সমতলে ধরে গেল আগুন”—কেন এমন হল?
উত্তর : ‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধের আগ্নেয়পাহাড়ের মতো আগমনে সমস্ত সমতলে আগুন ধরে গিয়েছিল, যার ফলে সাধারণ মানুষ, শহর ও জনপদ সব জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়েছিল।

৪. কথকের অপেক্ষায় কে, কোথায় দাঁড়িয়েছিল?
উত্তর:
চিলির কবি পাবলো নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কথকের অপেক্ষায় তার প্রিয়জনটি গভীর প্রত্যাশা নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়েছিল।

৫. “অসুখী একজন’ কবিতায় কে ফিরে আসার কথা জানত না ?
উত্তর : পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কথকের প্রিয়তমা সেই নারীটি জানত না, যে তার প্রিয় মানুষ অর্থাৎ কথক আর কখনো ফিরে আসবে না।

৬. “সেখানে ছড়িয়ে রইল”—কোথায় কী ছড়িয়েছিল?
উত্তর : ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরে ছড়িয়ে ছিল কাঠকয়লা, দোমড়ানাে লােহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের নিকষ কালাে দাগ।

৭. অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধ শেষে মেয়েটি কী করছিল ?
উত্তর : যুদ্ধ শেষে মৃত্যুহীনা মেয়েটি কথকের অপেক্ষায় পথ চেয়েছিল।

৮. তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারলাে না’—কেন তারা স্বপ্ন দেখতে পারেনি?
উত্তর : যুদ্ধের দাপটে দেবতারা মন্দির থেকে উল্টে পড়ে টুকরাে টুকরাে হয়ে গিয়েছিল, তাই তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারেনি।

৯. “সব চূর্ণ হয়ে গেল”—কী কী চূর্ণ হয়েছিল ?/জ্বলে গেল আগুনে’—আগুনে কী কী জ্বলে ছিল?
উত্তর : ‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধের তাণ্ডবে কথকের স্মৃতি বিজড়িত মিষ্টি বাড়ি, চিমনি, গােলাপি গাছ, জলতরঙ্গ সবকিছু যুদ্ধের দাপটে চুর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

১০. ‘সব চূর্ণ হয়ে গেল’— কী কারণে সব চূর্ণ হয়ে গেল?
উত্তর:
‘অসুখী একজন’ কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের ফলে আসা রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো যুদ্ধের তাণ্ডবে এবং তার সর্বগ্রাসী অগ্নিকাণ্ডের কারণে কবির স্মৃতিবিজড়িত মিষ্টি বাড়িসহ সবকিছু চূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

১১. “রক্তের একটা কালাে দাগ”—কালাে দাগ কীসের প্রতীক?
উত্তর : সর্বগ্রাসী যুদ্ধের ভয়াবহতার স্মৃতিচিহ্ন হল রক্তের এই কালাে দাগ।

১২. অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
উত্তর :
‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধকে রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

১৩. ‘নেমে এল তার মাথার ওপর’-কার মাথার উপর, কী নেমে এসেছিল?
উত্তর :
পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কথকের অপেক্ষায় বসে থাকা মেয়েটির মাথার ওপর একটার পর একটা পাথরের মতো কঠিন বছরগুলো নেমে আসার কথা বলা হয়েছে।

১৪. তারপর যুদ্ধ এল — কোন কবিতার লাইন? ‘যুদ্ধ এল’– এর অর্থ কী?
উত্তর:
‘তারপর যুদ্ধ এল’ – এই পঙক্তিটি চিলির প্রখ্যাত কবি পাবলো নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন’ কবিতার একটি লাইন।
উদ্ধৃত অংশে ‘যুদ্ধ এল’ বলতে বোঝানো হয়েছে, কথকের অনুপস্থিতিতে তাঁর দেশে এক ভয়াবহ যুদ্ধের সূচনা হলো, যার আগুনে সাধারণ মানুষ, শহর ও জনপদ সব জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে গেল।

১৫. তারপর যুদ্ধ এল’—এই যুদ্ধের প্রকৃতি কেমন ছিল?/কীভাবে যুদ্ধ এল?
উত্তর :
‘অসুখী একজন’ কবিতায় বর্ণিত যুদ্ধের প্রকৃতি ছিল রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতাে।

১৬. ‘তারপর যুদ্ধ এল’ — যুদ্ধ আসার ফল কী হয়েছিল?
উত্তর:
‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধ আসার ফলে শিশু ও ঘরবাড়ি ধ্বংস হলো, সমস্ত সমতলে আগুন ধরে গেল এবং মন্দির, দেবতাসহ কবির স্মৃতিবিজড়িত মিষ্টি বাড়িটিও চূর্ণ হয়ে গেল।

১৭. অসুখী একজন’ কবিতাটি বাংলায় কে তরজমা করেছেন?/কবিতার অনুবাদক কে?
উত্তর :
অসুখী একজন কবিতাটি বাংলায় তরজমা করেছেন নবারুণ ভট্টাচার্য। / ‘অসুখী একজন’ কবিতাটির অনুবাদক হলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক নবারুণ ভট্টাচার্য।

১৮. ‘সে জানত না’–‘সে’ কী জানত না?
উত্তর :
অপেক্ষারতা মেয়েটি জানত না যে তার প্রিয়জন আর কখনাে ফিরে আসবে না।

১৯. আমি তাকে ছেড়ে দিলাম’—কথক কাকে ছেড়ে দিলেন?
উত্তর :
কথক তাঁর প্রিয়তমাকে ছেড়ে দিলেন।

২০. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কথকের স্বপ্নবিজড়িত বাড়ির পরিবেশটি কেমন ছিল?
উত্তর :
‘অসুখী একজন’ কবিতায় স্বপ্নবিজড়িত কথকের বাড়িটি ছিল ভারি মিষ্টি। সেই বাড়ির বারান্দায় ঝুলন্ত বিছানায় কথক ঘুমােতেন। গােলাপি গাছ, চিমনি, জলতরঙ্গাও ছিল সেই বাড়িতে।

২১. ‘যেখানে ছিল শহর’ সেখানে যুদ্ধের পর কী অবস্থা হয়েছিল?
উত্তর :
যেখানে একদা প্রাণচঞল শহর ছিল, যুদ্ধের পর সেখানে প্রাণহীন শ্মশানের মতাে কাঠকয়লা ছড়িয়ে ছিল।

২২. ‘সেই মেয়েটির মৃত্যু হল না/সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়’—কোন্ মেয়েটির কথা বলা হয়েছে?
উত্তর :
প্রিয়জন বিদায় নেওয়ার পর প্রতীক্ষার দীর্ঘ প্রহর গুণে যে মেয়েটি অশেষ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিল। এখানে সেই মেয়েটির কথা বলা হয়েছে।

২৩. ‘সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না’। – কেন মেয়েটির মৃত্যু হল না?
উত্তর:
‘অসুখী একজন’ কবিতায় মেয়েটি শুধুমাত্র একজন নারী নয়, বরং শাশ্বত প্রেম ও মানবতার প্রতীক; আর প্রেম হলো চিরন্তন, যা কোনো ধ্বংস বা বিনাশের দ্বারা শেষ হয় না, তাই তার মৃত্যু হলো না।

২৪. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কথক অপেক্ষারতাকে ছেড়ে কোথায় চলে গেলেন?
উত্তর:
প্রখ্যাত কবি পাবলো নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কথক অপেক্ষারত মেয়েটিকে ছেড়ে “দূর থেকে দূরে” কোনো এক অনিশ্চিত গন্তব্যে চলে গেলেন।

২৫. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কবির পায়ের দাগ কীসে ধুয়ে গিয়েছিল?
উত্তর:
পাবলো নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কবির পায়ের দাগ বৃষ্টির জলে ধুয়ে গিয়েছিল, আর সেখানে সবুজ ঘাসে ভরে গিয়েছিল।

২৬. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কবি পরিত্যক্ত রাস্তায় কী জন্মানোর কথা বলেছেন?
উত্তর:
‘অসুখী একজন’ কবিতায় কবি পরিত্যক্ত রাস্তায় ঘাস জন্মানোর কথা বলেছেন। পংক্তিটির মাধ্যমে সময়ের নিষ্ঠুর প্রবাহ এবং বিস্মৃতিকে বোঝানো হয়েছে।

২৭. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কবি ‘পাথরের মতো’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর:
পাবলো নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন’ কবিতায় ‘পাথরের মতো’ বলতে কবি এখানে কথকের জন্য তাঁর প্রেমিকার অন্তহীন সময়ের অপেক্ষা আর দুঃসহ বেদনাকে বুঝিয়েছেন, যা ছিল অত্যন্ত কঠিন, ভারবাহী এবং নিষ্ঠুর।

২৮. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধের ছবিটি কীভাবে ফুটে উঠেছে?
উত্তর:
‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধকে “রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো” ভয়ংকর রূপে দেখানো হয়েছে, যা ধ্বংস আর মৃত্যুর বার্তা নিয়ে আসে।

২৯. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় উল্লিখিত যুদ্ধে অপেক্ষারতা মেয়েটির কী হল?
উত্তর:
‘অসুখী একজন’ কবিতায় ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেলেও ভালোবাসার প্রতীক সেই অপেক্ষারতা মেয়েটির মৃত্যু হলো না।

৩০. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কবি দেবতাদের চেহারার কী বর্ণনা দিয়েছেন?
উত্তর:
‘অসুখী একজন’ কবিতায় কবি দেবতাদের ‘শান্ত হলুদ’ বলে বর্ণনা করেছেন। এখানে ‘শান্ত হলুদ’ বলতে দেবতাদের হাজার বছরের ধ্যানমগ্ন নিষ্ক্রিয়তা এবং জীর্ণতাকে বোঝানো হয়েছে, যা ভয়াবহ যুদ্ধের মুখে মানুষকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

৩১. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় দেবতারা হাজার বছর ধরে কী করছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায়?
উত্তর:
‘অসুখী একজন’ কবিতায় দেবতারা হাজার হাজার বছর ধরে গভীর ধ্যানে ডুবে ছিল বলে কবি উল্লেখ করেছেন। এখানে দেবতাদের ধ্যানে ডুবে থাকা বলতে তাদের নির্বিকার নিষ্ক্রিয় রূপটিকেই বোঝানো হয়েছে।

৩২. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় দেবতারা কোথা থেকে টুকরো টুকরো হয়ে উলটে পড়েছিল?
উত্তর:
‘অসুখী একজন’ কবিতায় শান্ত হলুদ দেবতারা যুদ্ধের তাণ্ডবে মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে উলটে পড়েছিল।

৩৩. ‘তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।’ — ‘তারা’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর:
পাবলো নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে গৃহীত ‘তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না’ পঙক্তিতে ‘তারা’ বলতে শান্ত, হলুদ সেই প্রাচীন দেবতাদের কথা বলা হয়েছে, যারা যুদ্ধের তাণ্ডবে মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে উলটে পড়েছিল।

৩৪. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধে কবির বাড়ির অবস্থা কী হয়েছিল?
উত্তর:
‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী ধ্বংসলীলার কবলে পড়ে কবির সেই মিষ্টি বাড়ি, বারান্দা, ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ এবং প্রাচীন জলতরঙ্গ সবই ভেঙে, গুঁড়িয়ে, আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছিল।

৩৫. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় যেখানে শহর ছিল সেখানে যুদ্ধের ফলে কী কী ছড়িয়ে রইল?
উত্তর:
‘অসুখী একজন’ কবিতায় যেখানে শহর ছিল, সেখানে যুদ্ধের পরে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা এবং রক্তের একটা কালো দাগ ছড়িয়ে রইল।

৩৬. ‘আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়’ – ‘আর’ শব্দটি ব্যবহারের কারণ কী?
উত্তর:
‘অসুখী একজন’ কবিতায় ‘আর’ শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, যুদ্ধে শিশু, ঘরবাড়ি ও দেবতারা ধ্বংস হয়ে গেলেও একজন নারীর অটুট ভালোবাসা ও অন্তহীন অপেক্ষা কোনোভাবেই বিনাশ হয়নি।

৩৭. ‘রক্তের একটা কালো দাগ’। কোথায় রক্তের একটা কালো দাগ দেখা গিয়েছিল?
উত্তর:
‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসলীলার শেষে শহরের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে রক্তের একটা কালো দাগ দেখা গিয়েছিল।

৩৮. ‘বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ’ — পায়ের দাগ ধুয়ে দেওয়া বলতে কী বোঝ?
উত্তর:
‘অসুখী একজন’ কবিতায় পায়ের দাগ ধুয়ে দেওয়া বলতে বোঝানো হয়েছে, দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে এবং প্রকৃতির নিয়মে কবির ফেলে আসা পথের স্মৃতি বা তাঁর অস্তিত্বের চিহ্নটুকুও বিলীন হয়ে গেছে।

৩৯. ‘হেঁটে গেল গির্জার এক নান’— ‘নান’ কাদের বলা হয়?
উত্তর:
গির্জায় বসবাসকারী খ্রিস্টান সন্ন্যাসিনীদের ‘নান’ বলা হয়। যাঁরা জাগতিক সুখ ত্যাগ করে কোনো গির্জার সঙ্গে যুক্ত থেকে ধর্মীয় জীবনযাপন করেন।

অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর | Asukhi Ekjon Kobita Question Answer

উত্তর :

উৎস : নােবেলজয়ী চিলিয়ান কবি পাবলাে নেরুদা রচিত, নবারুণ ভট্টাচার্য অনূদিত “অসুখী একজন’ কবিতা থেকে প্রদত্ত অংশটি গৃহীত হয়েছে।

প্রিয়জন বিদায় নেওয়ার পর যে মেয়েটি দীর্ঘদিন প্রতীক্ষার প্রহর গুণে অশেষ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিল, এখানে সেই মেয়েটির কথা বলা হয়েছে।

প্রিয়জন বিদায় নেওয়ার পর মেয়েটি জানত না, এ যাওয়াই কথকের শেষ যাওয়া। এরপর যুদ্ধ আসে। যুদ্ধের সর্বগ্রাসী অগ্নিশিখা জাগতিক সবকিছুকে ধ্বংস করলেও, মেয়েটির হৃদয়ের ভালােবাসাকে স্পর্শ করতে পারে না। তাই সর্বহারার মহাশ্মশানে দাঁড়িয়েও মৃত্যুহীন। মেয়েটি তার প্রিয়জনের প্রতীক্ষায় পথ চেয়ে থাকে।

জাগতিক সবকিছুই নশ্বর, একমাত্র ভালােবাসা অবিনশ্বর। প্রকৃতপক্ষে মেয়েটি ছিল ভালােবাসার মূর্ত প্রতীক। শাশ্বত ভালােবাসার মৃত্যু হয় না। যুদ্ধের কাঠিন্য ভালােবাসার ফল্গুধারার কাছে হার মানে। তাই যুদ্ধের আগুন মেয়েটিকে স্পর্শ করতে পারেনি। অপেক্ষারতা মেয়েটিরও মৃত্যু হয়নি।

উত্তর: উদ্ধৃত উক্তিটিতে কবি পাবলো নেরুদা নিজেই কথকের ভূমিকায় কথা বলেছেন। এখানে কবি তাঁর প্রিয়তমা নারীকে ছেড়ে দিয়েছিলেন।

কবি কর্মসূত্রে ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নিজের বাসভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য হন। সেই সময় তিনি প্রিয়তমাকে ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়, অপেক্ষার মধ্যে ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে রেখে দূরে চলে যান। যাওয়ার সময় তিনি একবারও জানাননি যে তিনি আর কখনও ফিরে আসবেন না।

উত্তর: নোবেলজয়ী কবি পাবলো নেরুদা–র ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে নেওয়া এই উদ্ধৃতাংশে সময়ের প্রবহমানতা ও বিচ্ছেদের গভীরতা প্রকাশ পেয়েছে।

তাৎপর্য: কবি কর্মসূত্রে ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তাঁর প্রিয়তমাকে অপেক্ষায় রেখে দূরে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর চলে যাওয়ায় জীবনের স্বাভাবিক গতি থেমে থাকেনি, সপ্তাহ ও বছর পেরিয়ে সময় তাঁর নিজের গতিতে এগিয়ে গেছে। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে বৃষ্টির জল যেমন পথের ধুলো থেকে কবির পায়ের ছাপ মুছে দিয়েছে, তেমনি দীর্ঘকাল জনচলাচল না হওয়ায় সেই পথে ঘাস গজিয়ে উঠেছে। কিন্তু বাইরের জগতের এই পরিবর্তনের মাঝেও কবির সেই প্রিয়তমার হৃদয়ে তাঁর জন্য অপেক্ষা ছিল অমলিন ও চিরন্তন।

উত্তর: প্রখ্যাত কবি পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে উদ্ধৃতিটি গৃহীত হয়েছে।

বছরগুলোকে পাথরের মতো বলার কারণ: কবি যখন তাঁর প্রিয়তমাকে অপেক্ষায় রেখে দূরে চলে যান, তখন সেই নারী জানতেন না যে তাঁর প্রিয় মানুষটি আর কখনও ফিরে আসবেন না। কিন্তু এতে জীবন থেমে থাকেনি। সময়ের সঙ্গে বৃষ্টির জলে কবির পায়ের ছাপ মুছে যায় এবং রাস্তায় ঘাস জন্মায়, কিন্তু সেই নারীর অপেক্ষার শেষ হয় না। এই দীর্ঘ অপেক্ষার প্রতিটি বছর ওই একাকী নারীর জীবনে এক একটি ভারী পাথরের বোঝার মতো নেমে আসে। পাথর যেমন ভারী ও কঠিন, তেমনি বিচ্ছেদের এই বছরগুলোও ছিল নিষ্ঠুর ও কষ্টে ভরা। তাই দীর্ঘ বিচ্ছেদের দুঃসহ যন্ত্রণা ও সময়ের ভারকে বোঝাতেই বছরগুলোকে ‘পাথরের মতো’ বলা হয়েছে।

উত্তর: নোবেলজয়ী কবি পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে উদ্ধৃতিটি গৃহীত হয়েছে।

যুদ্ধকে ‘রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়’ বলার কারণ: যুদ্ধের ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক রূপ বোঝাতে কবি যুদ্ধকে ‘রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। অগ্নেয়গিরি যেমন উত্তপ্ত জ্বলন্ত লাভা ছড়িয়ে দিয়ে আশপাশের জনপদ ও জীবনের যাবতীয় চিহ্ন ছাই করে দেয়, যুদ্ধও ঠিক তেমনই সর্বগ্রাসী ধ্বংসলীলা নিয়ে আসে। যুদ্ধের ফলে মানুষের মনে জমে থাকা হিংসা ও ঘৃণা লাভার মতো ফেটে পড়ে এবং অগণিত মানুষের রক্তে পৃথিবী রঞ্জিত হয়। এই বিধ্বংসী যুদ্ধে যেমন মানুষের ঘরবাড়ি ও স্মৃতি ধ্বংস হয়, তেমনি অপমৃত্যু ঘটে মানবতার। যুদ্ধের এই নারকীয় এবং রক্তক্ষয়ী ধ্বংসলীলার রূপটিকে ফুটিয়ে তুলতেই কবি এমন শক্তিশালী উপমা ব্যবহার করেছেন।

উত্তর:

দেবতাদের ‘শান্ত হলুদ’ বলার কারণ: ‘শান্ত’ বলা হয়েছে কারণ দেবতারা হাজার হাজার বছর ধরে ধ্যানমগ্ন ও নীরব অবস্থায় অবস্থান করে। আর হলুদ রং যেহেতু প্রাচীনতা ও জীর্ণতাকে বোঝায়, তাই দেবতারাও তেমনি প্রাচীন বলে তাদের ‘হলুদ’ বলা হয়েছে।

‘শান্ত হলুদ’ দেবতাদের পরিণতি: যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শান্ত হলুদ দেবতারাও রেহাই পাননি। যুদ্ধের আগুনে যখন সমস্ত সমতল পুড়ে ছারখার হয়ে গেল, তখন সেই দেবতারা মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে উল্টে পড়লেন। তাঁদের চূড়ান্ত পরিণতি এই হলো যে, তাঁরা আর কোনোদিন স্বপ্ন দেখতে পারলেন না। অর্থাৎ, যুদ্ধের তাণ্ডবে মানুষের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভরসার জায়গাটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল।

উত্তর :

উৎস : নােবেলজয়ী চিলিয়ান কবি পাবলাে নেরুদা রচিত, নবারুণ ভট্টাচার্য অনূদিত “অসুখী একজন’ কবিতা থেকে প্রদত্ত অংশটি গৃহীত হয়েছে। যুদ্ধের ধ্বংসলীলার প্রভাবে সবকিছু চূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। কথকের মিষ্টি বাড়ি, বারান্দার ঝুলন্ত বিছানা, গােলাপি গাছ, চিমনি, প্রাচীন জলতরঙ্গ সবই চূর্ণ হয়ে যায় যুদ্ধের দাপটে, জ্বলে যায় যুদ্ধের আগুনে।

অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর
Asukhi Ekjon Kobita

উত্তর :

উৎস : নােবেলজয়ী চিলিয়ান কবি পাবলাে নেরুদা রচিত, নবারুণ ভট্টাচার্য অনূদিত ‘অসুখী একজন’ কবিতার কথক তার প্রিয়ার বাহুডাের পরিত্যাগ করে পা বাড়িয়েছিলেন অনিশ্চিত কর্তব্যের জগতে অথচ এই হৃদয়বিদারক সত্যটি কথকের প্রিয়তমার কাছে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত ছিল। তাই প্রিয়জন বিদায় নেওয়ার পর, অপেক্ষার চোরাবালিতে প্রতীক্ষার প্রহর গুণতে থাকা মেয়েটির দুটি চোখ দেখেছে কীভাবে সময়ের হাত ধরে বয়ে চলেছে সপ্তাহ-মাস-বছর। পাথরের মতাে ভারী ও নিষ্ঠুর বছরগুলি ক্রমাগত দুঃসহনীয় পাষাণভার নিয়ে নেমে এসেছিল মেয়েটির মাথার ওপর। নিখাদ ভালােবাসা বুকে নিয়ে অপেক্ষামানা মেয়েটির দুঃসহ প্রতীক্ষার দিনগুলির পরবর্তী সময়কে বােঝাতে ‘তারপর’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।

যুদ্ধ আসে নির্মমতার নকশি কাথা বুনতে, রক্ত ঝরাতে, আগুন লাগতে। প্রাণঘাতী যুদ্ধের যূপকাষ্ঠে নিস্পাপ শিশুরা বলি প্রদত্ত হয়। এমনকি প্রাসাদ, অট্টালিকা, ঘরবাড়ি সহ দেবতার মন্দিরও যুদ্ধের লেলিহান শিখা থেকে পরিত্রাণ পায় না। কবিতায় আমরা দেখি—
(ক) যুদ্ধের আগমন : রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতাে রক্ত বর্ষণ করতে করতে, অতর্কিতে একদিন সমতল ভূমির বুকে আছড়ে পড়ে যুদ্ধ।
(খ) যুদ্ধের তাণ্ডব : সর্বগ্রাসী যুদ্ধের কষাঘাতে শান্ত নিস্তরঙ্গ শহরের বুকে নেমে আসে ঘূর্ণিঝড়ের মহাতাণ্ডব। এমনকি কথকের শৈশব সুখস্মৃতি বিজড়িত সমস্ত চিহ্নগুলি পর্যন্ত চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।
(গ) যুদ্ধের পরিণতি : যুদ্ধ শেষে একটা প্রাণচঞ্চল শহর কাঠ কয়লায় ঘেরা শ্মশানভূমিতে পরিণত হয়। চারিদিকে ছড়িয়ে থাকে দোমড়ানাে লােহা, মুর্তির মাথা, আর রক্তের নিকষ কালাে দাগ।
(ঘ) ভালােবাসার কাছে যুদ্ধের পরাজয় : যুদ্ধের তাণ্ডবে জাগতিক সবকিছু ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও; অপেক্ষারতা মেয়েটির হৃদয়ের ভালােবাসাকে যুদ্ধ স্পর্শ পর্যন্ত করতে পারে নি। সে যেন বৈষুব পদাবলীর শ্রীরাধিকার মতই শুন্য বৃন্দাবনে কৃয়ের জন্য প্রতীক্ষায় উন্মুখ। তাই তাে সর্বহারার মহাশ্মশানে হৃদয়ের ভালােবাসার অনির্বাণ দীপশিখাকে প্রজ্জ্বলিত করে আর চোখে অন্তহীন তৃষা নিয়ে, প্রিয়জনের প্রতীক্ষায় পথ চেয়ে থাকে যুদ্ধজয়ী মৃত্যুহীনা মেয়েট।

উত্তর: কবি পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় মানবমনের এক চিরন্তন সত্য প্রকাশ পেয়েছে। কবি যেন কোনো এক নারীকে তারই অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে দূর থেকে দূরতর কোনো স্থানে চলে যান। সেই অপেক্ষারতা যদিও জানত না যে, কবি আর কখনো ফিরবেন না।

এরই মধ্যে সমাজ জীবন তার নিজের গতে চলতে থাকে। রাস্তার উপর চলে যায় এক পথবাসী কুকুর, হেঁটে যান গির্জার এক নান। এইসব টুকরো টুকরো প্রাত্যহিকতায় সপ্তাহ আর বছর কেটে যায়। বৃষ্টিতে কবির পদচিহ্ন ধুয়ে ঘাস জন্মালো রাস্তায়। কিন্তু সেই অপেক্ষারতার সময় কাটে –

“আর একটার পর একটা পাথরের মতো,
পরপর পাথরের মতো বছরগুলো
নেমে এলো তার মাথার উপর।”

অর্থাৎ, ভারী পাথরের গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী আঘাতের মতো যন্ত্রণায় সেই নারীর দিন কাটে। এরপর রক্তের আগ্নেয় পাহাড়ের মতো যুদ্ধ শিশু ও বাড়িদের খুন করে, সমতলে আগুন ধরায়। কবির মিষ্টি বাড়িটিও যেন ধ্বংস হয়। যুদ্ধের আগুনে ভস্মীভূত হয় সমস্ত শহর। তারই নিদর্শন হিসেবে যত্রতত্র কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বিভৎস মাথা ও রক্তের শুকনো কালো দাগ যেন পড়ে রয়। শুধু যাকে এই যুদ্ধের বিভৎসতা ছুঁতে পারে না, তা হলো কবির সেই প্রিয় অপেক্ষারতার ভালোবাসা।

উত্তর: চিলির কবি পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে প্রশ্নোদ্ধৃত পঙ্‌ক্তিটি গৃহীত নেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো সংগ্রাম। যে নারকীয় সংগ্রামে মানুষের নৃশংস হিংস্রতা ও পৈশাচিক বিভৎসতার প্রকাশ ঘটে, তাই যুদ্ধ। কবিতাটি শুরু হয় যেন কোনো এক মানুষের বেদনাদায়ক নির্বাসনের হৃদয়স্পর্শী বিদায় মুহূর্তকে কেন্দ্র করে। তার প্রিয় নারী তথা প্রিয় ভূখণ্ড ছেড়ে তাকে চলে যেতে হয়। অথচ সেই মহিলা জানে না এই মানুষটি আর কখনো ফিরে আসবে না। তাই সে প্রতীক্ষায় অপেক্ষারত। কবিতার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত নিরন্তর এই প্রতীক্ষা চলে। অপেক্ষার দুঃসহ যন্ত্রণা ছাড়া জীবন তার নিয়মে, স্বাভাবিক ছন্দেই যেন প্রবাহিত হতে থাকে।

হঠাৎ এরই মধ্যে একদিন শুরু হলো যুদ্ধ। রক্তের আগ্নেয় পাহাড়ের মতো ধ্বংসাত্মক বিভৎসতায় তা আছড়ে পড়ল মানুষের জনজীবনে। এর ফলে রেহাই পেল না শিশুরাও। মানুষ আশ্রয়হীন হলো। বাড়ি খুন হওয়ার মধ্য দিয়ে তার অস্তিত্ব ও আশ্রয়ের একমাত্র অর্থবহ প্রতীকটিও নিশ্চিহ্ন হলো। কবি এখানে ভয়াবহ ধ্বংসের সীমাহীন ব্যাপ্তিকে ফুটিয়ে তুলেছেন। ‘শিশু আর বাড়িরা খুন হলো’ পঙ্‌ক্তিটির করুণ ছবিতে এরপর সমস্ত সমতলজুড়ে আগুন লাগল। দেবতার মন্দির ভেঙে টুকরো টুকরো হলো। নির্বাসিত মানুষটির মধুর স্বপ্ন ও স্মৃতি বিজড়িত প্রিয় মিষ্টি বাড়িটিও যেন নিশ্চিহ্ন হলো। বারান্দার ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপী গাছ, ছড়ানো করতলের মতো পাতা, চিমনি সব চূর্ণ হলো। ভস্ম হলো আগুনে।

ঠিক এইভাবে পুড়ে গেল গোটা শহর। সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রইল কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বিভৎস মাথা ও রক্তের শুকনো কালো দাগ। তবে যুদ্ধের এই ভয়াবহতা সত্ত্বেও এই পোড়া জমির মধ্যে, যেন ধস্ত, ভগ্ন, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অনির্বাণ হয়ে রয় অপেক্ষারতা সেই মেয়েটির ভালোবাসা। শত যুদ্ধ, হিংসা, দাঙ্গা, আগুন পেরিয়েও বেঁচে থাকে তার অপেক্ষা। মানব হৃদয়ের ভালোবাসা ও অন্তরের স্বপ্নীল আবেশ যে অবিনাশী, এই বিশ্বাসেই কবি শেষ পর্যন্ত অবিচল থাকেন।

উত্তর:

কোন কবিতার অংশ? :- চিলির কবি পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে প্রশ্নোদ্ধৃত পঙ্‌ক্তিটি গৃহীত নেওয়া হয়েছে।

‘আমি’ কে :- চিলির কবি পাবলো নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন’ কবিতায় ‘আমি’ বলতে স্বয়ং কবি নিজেকে তথা কবিতার কথককে বুঝিয়েছেন।

তিনি কাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন? :- পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে গৃহীত অংশে কথক তাঁর প্রিয় নারীকে অপেক্ষায় রেখে নিজ বাসভূমি ছেড়ে দূরে চলে গিয়েছিলেন।

তাঁর ‘ছেড়ে আসার’ তাৎপর্য :- কবিতাটিতে স্মৃতিচারণার মাধ্যমে কবি বর্তমান থেকে অতীতে ফিরে গেছেন। কবির ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতা এই কবিতায় গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কর্মসূত্রে ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপে তাঁকে বারবার স্বদেশ ত্যাগ করতে হয়েছে। জীবিকা ও জীবনের তাগিদে কবি প্রিয়তমাকে অপেক্ষায় রেখে দূরে চলে যান, কিন্তু তিনি যে আর ফিরে আসবেন না তা প্রিয়তমা জানত না।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সপ্তাহ পেরিয়ে বছর কেটে যায়, কবির পদচিহ্ন মুছে যায়, সেখানে ঘাস জন্মায়। বিচ্ছেদের বছরগুলো কবির মনে ভারী যন্ত্রণার মতো জমতে থাকে। এরপর যুদ্ধ শুরু হলে চারদিকে নেমে আসে সর্বনাশ — ধ্বংস হয় ঘরবাড়ি, মৃত্যু হয় নিষ্পাপ শিশুদেরও। কবির স্বপ্নের ঘর, শহর ও দেবালয় সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

তবু এই ধ্বংসের মধ্যেও প্রিয়তমার ভালোবাসা অটুট থাকে। তার অপেক্ষা ও নিঃস্বার্থ প্রেম ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও আলোর মতো জ্বলে উঠে মানবহৃদয়ের চিরন্তন বিশুদ্ধতা ও ভালোবাসার অবিনাশী রূপকে প্রকাশ করে।

উত্তর:

‘যেখানে’ শব্দটি প্রয়োগ করার কারণ:- আলোচ্য উদ্ধৃতিটি পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতা থেকে গৃহীত হয়েছে। এখানে কবি যে শহরে বাস করেন তার কথা বলা হয়েছে। এই শহরটি কবির স্মৃতিতে জর্জরিত, কারণ এখানেই তিনি তার প্রিয় নারীটিকে অপেক্ষমান রেখে বহুদুরে চলে গিয়েছিলেন। এই শহরই একসময় প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য, প্রকৃতির সৌন্দর্য, স্নিগ্ধতা ও লাবণ্যে পরিপূর্ণ ছিল। তখনও যুদ্ধের আঘাত এই শহরকে স্পর্শ করতে পারেনি বোঝাতেই কবি ‘যেখানে’ শব্দটি প্রয়োগ করেছেন।

শহরটির কী হয়েছিল / শহরের পরিণতি:-

১. স্বপ্নের শহরের করুণ পরিণতি: কবির শহর ধ্বংসের মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়ায় মূলত যুদ্ধের ভয়ংকর নিষ্ঠুরতায়। একসময়কার প্রাণবন্ত জনপদ মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয় এক বীভৎস শ্মশানে।

সর্বগ্রাসী আগুন: যুদ্ধের আঘাতে গোটা সমতলজুড়ে আগুন লাগল। এমনকি দেবালয় পর্যন্ত রক্ষা পেল না। এই দেবালয়ের ধ্বংস প্রতীকী অর্থে বোঝায় মানুষের মধ্যেকার আদর্শ, নৈতিকতা ও মানবিকতার উপর থেকে বিশ্বাস চিরতরে বিলুপ্ত হওয়া।

নিশ্চিহ্ন স্মৃতিচিহ্ন: সবচেয়ে মর্মান্তিক হলো কবির মধুর স্মৃতিবিজড়িত স্বপ্নের বাড়িটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া। কবির বারান্দা, যেখানে ছিল তাঁর ঝুলন্ত বিছানা, প্রিয় গোলাপি গাছ, ছড়ানো করতলের মতো পাতা, চিমনি এবং প্রিয় জলতরঙ্গ সবকিছুই যুদ্ধের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল।

২. কাঠকয়লা: ধ্বংসের চূড়ান্ত প্রতীক: গোটা শহর পুড়ে যাওয়ার পর যা অবশিষ্ট রইল, তা ছিল চূড়ান্ত ধ্বংসের প্রতীক।

কাঠকয়লা ও লোহা: ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রইল শুধু কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা। এই পোড়া ধ্বংসাবশেষ প্রমাণ করে যে, মানব নির্মিত সভ্যতা কতটা ভঙ্গুর এবং ক্ষণস্থায়ী।

বীভৎস চিহ্ন: পাওয়া গেল মৃত পাথরের বীভৎস মাথা এবং রক্তের কালো দাগ। ‘মৃত পাথরের মাথা’ প্রতীকীভাবে বোঝায় যুদ্ধের তাণ্ডবে মানুষ ও প্রকৃতির সব ধরনের সৌন্দর্য এবং জীবনবোধের বিনাশ। রক্তের কালো দাগ হলো হিংসা ও বর্বরতার স্থায়ী স্বাক্ষর।

৩. বর্বরতার প্রতিচ্ছবি: কবির প্রিয় শহরের এই ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি পাঠককে স্তম্ভিত করে তোলে। এটি কেবল একটি শহরের পরিণতি নয়, এটি মানুষের লোভ, হিংসা এবং বর্বরতার চূড়ান্ত প্রকাশ। এই ধ্বংসলীলা স্পষ্ট করে যে, যুদ্ধ কীভাবে শুধু ভৌগোলিক স্থানকেই নয়, মানুষের প্রেম, আশা এবং মানবিক চেতনাকেও চিরতরে দগ্ধ করে কাঠকয়লায় পরিণত করে।

উত্তর:

কে অসুখী?:- আপাত দৃষ্টিতে দেখলে কবি পাবলো নেরুদা যে নারীকে দরজায় দাঁড় করিয়ে অন্তহীন অপেক্ষার মধ্যে রেখে চলে এসেছেন তিনি অসুখী। সেই নারী শুধু প্রিয়জনের বিচ্ছেদবেদনার কারণে অসুখী নন। তিনি যুদ্ধের বীভৎসতার কারণে অসুখী। অপরদিকে কবি কেউ অসুখী বলা চলে, কারণ তিনি প্রিয় মাতৃভূমিকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন দূরে। হয়তো আর কোনদিন ফিরতে পারবেন না, বিরহ বেদনা তাকেও জর্জরিত করেছে,তাই তিনি অসুখী। সমস্ত পরিস্থিতি বিচার করে বলা চলে, যুদ্ধের ধ্বংস বিনাশের মাঝে কবির প্রিয় নারী, কবি ও তার দেশের প্রায় সকল নাগরিক অসুখী।

কেন অসুখী?:-

১) নারীর অসুখী হওয়ার কারণ :

প্রিয়জনের অনুপস্থিতি: যুদ্ধের কারণে তার স্বামী বা প্রিয়জনরা ঘর ছেড়ে চলে যায়, যার ফলে সে নিঃসঙ্গ ও একা হয়ে পড়ে।
যুদ্ধের ভয়াবহতা ও ধ্বংসলীলা: চারিদিকে মৃত্যু, ধ্বংস আর বীভৎসতার কারণে তার জীবনে আর কোনো আনন্দ বা শান্তি থাকে না, এমনকি দৈব মহিমাও এই ধ্বংস রুখতে পারে না।
প্রেম ও সম্পর্কের অবক্ষয়: যুদ্ধ পরিস্থিতি তার প্রেম ও সম্পর্কের স্বাভাবিকতাকে নষ্ট করে দেয়, ফলে তার ভালোবাসার মানুষটিও ধীরে ধীরে দূরে সরে যায় এবং তার জীবনে বিষণ্ণতা নেমে আসে।
হতাশা ও বিচ্ছিন্নতা: যুদ্ধের কারণে তার সমস্ত স্বপ্ন ভেঙে যায় এবং সে এক গভীর হতাশা ও বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়, যা তাকে দীর্ঘস্থায়ী অসুখী করে তোলে।
জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ হারানো: একদিকে প্রিয়জনের অভাব, অন্যদিকে যুদ্ধকালীন ভয়াবহতা—এই দুইয়ে মিলে তার জীবন থেকে আনন্দ, হাসি, গান, সবকিছুই মুছে যায়।

২) কবির অসুখী হওয়ার কারণ :

স্বদেশ ত্যাগ ও চিরস্থায়ী বিচ্ছেদ: কবিকে একদিন স্বদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়েছিল, এবং তাঁর এই নিষ্ক্রমণ ছিল চিরদিনের জন্য। প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে চলে যাওয়ার এই অনিবার্যতা তাঁকে গভীরভাবে অসুখী করেছে।
ব্যর্থ প্রত্যাবর্তনের বেদনা: কবি জানেন যে তাঁর এই চলে যাওয়া চিরদিনের, অর্থাৎ তিনি আর কোনোদিন ফিরে যেতে পারবেন না। এই অসম্ভব প্রত্যাবর্তনের বেদনা তাঁকে জর্জরিত করে।
প্রিয়তমার কষ্টের জ্ঞান: যদিও অপেক্ষমান প্রিয়তমার এই চিরস্থায়ী বিচ্ছেদের সত্য জানা নেই, তবু কবি জানেন যে তাঁর অনুপস্থিতি ভালোবাসার মেয়েটির কাছে অন্তহীন অপেক্ষা ও গভীর পাথরের আঘাতের মতোই শ্বাসরুদ্ধকারী হয়ে উঠেছে। প্রিয়জনের এই কষ্ট তাঁর অসুখী হওয়ার অন্যতম কারণ।
স্মৃতিবিজড়িত স্থানের ধ্বংস: যুদ্ধের বীভৎসতায় সমস্ত সমতল গ্রাস হয়েছে এবং কবির সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিচিহ্নগুলি—যেমন, প্রিয় বাড়ি, বারান্দার ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ, চিমনি, প্রাচীন জলতরঙ্গ—সবকিছু ধ্বংসের লেলিহান আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। স্মৃতি ও আশ্রয়স্থলের এই বিনাশ কবিকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
সভ্যতার বর্বরতা ও নৃশংসতা দেখা: যুদ্ধ কেবল ঘরবাড়ি ধ্বংস করেনি, এর নৃশংসতায় শিশুরাও খুন হয়েছে। দেবতা ও দেবালয়ও চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে। এই সামগ্রিক ধ্বংস আর বর্বরতা (কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা ও রক্তের কালো দাগ) দেখে কবি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
মানবিক বিপর্যয়: মানুষ তার আশ্রয় হারায় এবং সমাজে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। এই ব্যাপক মানবিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হিসেবে কবিও নিজের হৃদয়ে সেই কষ্ট অনুভব করেন।

আরো পড়ুন

বহুরূপী গল্পের MCQ প্রশ্ন উত্তর | Bohurupi MCQ Question Answer

জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর MCQ | Gyanchakshu Golpo MCQ Question Answer

পথের দাবী গল্পের প্রশ্ন উত্তর MCQ | Pother Dabi MCQ Question Answer

অদল বদল গল্পের প্রশ্ন উত্তর MCQ | Adol Bodol MCQ Question Answer

মাধ্যমিক বাংলা MCQ সাজেশন ২০২৬ | Madhyamik Bengali MCQ Suggestion 2026 | Wbbse

Note: এই আর্টিকেলের ব্যাপারে তোমার মতামত জানাতে নীচে দেওয়া কমেন্ট বক্সে গিয়ে কমেন্ট করতে পারো। ধন্যবাদ।

4 thoughts on “অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর | Asukhi Ekjon Kobita Question Answer | Class 10 | Wbbse”

Leave a Comment