প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা এই আর্টিকেলে আমরা Class 7 এর আঁকা লেখা কবিতার প্রশ্ন উত্তর নিয়ে এসেছি। তোমাদের সপ্তম শ্রেনীর পাঠ্যবইতে মৃদুল দাশগুপ্তের লেখা আঁকা লেখা কবিতা রয়েছে। কবিতার শেষের হাতে কলমে প্রশ্নগুলির সমাধান আমরা এখানে করে দিলাম। আশা করি সবার ভালো লাগবে।
আঁকা লেখা
মৃদুল দাশগুপ্ত
আঁকা লেখা কবিতার প্রশ্ন উত্তর | মৃদুল দাশগুপ্ত | Class 7 Bengali Aka Lekha Question Answer
হাতে কলমে প্রশ্ন উত্তর
১. ‘পিটপিটে চোখ’— শব্দটির মানে ‘যে চোখ পিটপিট করে তাকায়। এইরকম আরো পাঁচটি শব্দ তৈরি করো। একটি করে দেওয়া হলো— কুড়মুড়ে চানাচুর।
উত্তর : গরম গরম লুচি, ঝিরঝিরে বৃষ্টি, তরতাজা শিশু, টাটকা সবজি, ঝুরঝুরে আলুভাজা।
২. ঠিক বানানটি বেছে নাও :
২.১ মৎস্য / মৎস / মৎশ্য,
উত্তর : মৎস্য
২.২ দুধের স্বর / দুধের সর / দুধের শর,
উত্তর : দুধের সর
২.৩ কাপন / কাঁপন / কাঁপণ,
উত্তর : কাঁপন
২.৪ ঈশৎ / ইষৎ / ঈষৎ
উত্তর : ঈষৎ
শব্দার্থ : খুশ খেয়াল—খামখেয়াল, মর্জি। ঈষৎ—অল্প, কিঞ্চিৎ। চিত্র—ছবি, আলেখ্য, প্রতিলিপি। | কাঁপন—কম্পন, স্পন্দন। মৎস্য—মাছ, মীন। পুলক-রোমাঞ্চ, আনন্দ। সর—দুধ, দই প্রভৃতির উপরের ঘন নরম আবরণ। পদক—কণ্ঠভূষণ, লকেট। পিটপিটে—মিটমিটে, আধচোখে দেখা। বেজায়—অত্যন্ত, খুব। পুরু —ঘন, স্থূল। পরম—চরম, অত্যন্ত।
৩. . নীচে দেওয়া শব্দগুলির সমার্থক শব্দ কবিতা থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো :
সামান্য, আনন্দ, মীন, নক্ষত্র, মূষিক।
উত্তর : সামান্য = ঈষৎ
আনন্দ = খুশি
মীন = মৎস্য
নক্ষত্র = তারা
মূষিক = ইঁদুর
৪. ‘কম্পন’ শব্দ থেকে এসেছে ‘কাঁপন’ শব্দটি, অর্থাৎ ‘ম্প’ যুক্তাক্ষরটি ভেঙে যাচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া ‘ম’ আগের ধ্বনিটিকে অনুনাসিক করে তুলেছে এবং একটি নতুন ‘আ’ ধ্বনি চলে আসছে। এই নিয়মটি মনে রেখে নীচের ছকটি সম্পূর্ণ করো।

উত্তর :
চন্দ্ৰ > চাঁদ
চম্পা > চাঁপা
ঝাঁপ > ঝাঁপ
ষণ্ড > ষাঁড়
অঙ্ক > আঁক
৫. একসঙ্গে অনেক প্রজাপতি থাকলে আমরা বলি ‘প্রজাপতির ঝাঁক’। এইভাবে আর কী কী শব্দ তৈরি করা যায় শব্দঝুড়ি থেকে শব্দ নিয়ে নীচের শূন্যস্থানগুলি পূরণ করে দেখো।

উত্তর :
৫.১ ভেড়ার পাল
৫.২ কইমাছের ঝাঁক
৫.৩ হস্তী যূথ
৫.৪ নৌকার বহর
৫.৫ সুপুরি গাছের সারি
৫.৬ ছাত্রদের দল
৬. নীচের বিশেষ্যগুলির বিশেষণের রূপ লেখো :
রং, চিত্র, মাঠ, লেখা, পুলক।
উত্তর : রং = রঙিন
চিত্র = চিত্রিত
মাঠ = মেঠো
লেখা = লিখিত
পুলক = পুলকিত
৭. নীচের বিশেষণগুলির পরে উপযুক্ত বিশেষ্য বসিয়ে বাক্য রচনা করো :

উত্তর :
৭.১ ঈষৎ কাঁপন – বাতাস ঈষৎ কাঁপন দিয়ে গাছের পাতা দোলায়।
৭.২ বেজায় খুশি – নতুন জামাকাপড় পেয়ে ছেলেমেয়েরা বেজায় খুশি।
৭.৩ পিটপিটে চোখ – পিটপিটে চোখে শিশুটি তাকিয়ে আছে।
৭.৪ পরম পুলক – ছোট পাখিটি মাকে কাছে পেয়ে পরম পুলকে ডানা নাড়ায়।
৭.৫ নীল রং – নীল রং আমার ভীষণ প্রিয়।
৭.৬ গোপন বাসনা – ছেলেটির গোপন বাসনা সে চাঁদে যাবে।
৮. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো :
গোপন, ঈষৎ, খুশি, পুরু, ঝগড়া।
উত্তর : গোপন = প্রকাশ
ঈষৎ = বেশি
খুশি = কষ্ট
পুরু = সরু
ঝগড়া = বন্ধুত্ব
৯. নিম্নরেখ অংশগুলির কারক বিভক্তি নির্ণয় করো :
৯.১ তিনটি শালিক ঝগড়া থামায়।
উত্তর : কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।
১৯.২ গর্ত থেকে ইঁদুর, সেটাও পিটপিটে চোখ দেখছে চেয়ে।
উত্তর : অপাদান কারকে ‘থেকে’ অনুসর্গ।
৯.৩ প্রজাপতির ঝাঁক চাইছে তাদের রাখি আমার আঁকায়।
উত্তর : অধিকরণ কারকে ‘য়’ বিভক্তি।
৯.৪ এবার যেন তারার মালা খুব গোপনে নামছে কাছে।
উত্তর : কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।
৯.৫ সেই তো আমার পদক পাওয়া।
উত্তর : কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।
১০. বাক্য বাড়াও
১০.১ আমি যখন আঁকি। (কী, কীভাবে? )
উত্তর : আমি যখন ছবি আঁকি, রং ছড়িয়ে খেয়াল খুশি ভাবে।
১০.২ চাঁদের দুধের সর জমে যায়। (কোথায়? কেমন?)
উত্তর : মাঠের পুরু চাঁদের দুধের সর জমে যায়।
১০.৩ পিটপিটে চোখ দেখছে চেয়ে। (কে? কোথা থেকে? )
উত্তর : ইঁদুর পিটপিটে চোখে দেখছে চেয়ে গর্ত থেকে।
১০.৪ ছড়া লেখার শুরু। (কার ? কখন ? )
উত্তর : কবির ছড়া লেখার শুরু, বাতাস ঈষৎ কাঁপন লাগে।
১০.৫ ‘অ’ লিখছে ‘আ’ লিখছে। (কারা? কোথায় ? )
উত্তর : জোনাকিরা বকুল গাছে ‘অ’ ‘আ’ লিখছে।
মৃদুল দাশগুপ্ত (১৯৫৫): হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে জন্ম। লেখাপড়া করেছেন উত্তরপাড়া কলেজে। বিষয় ছিল জীববিজ্ঞান। প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ‘জলপাই কাঠের এসরাজ’। অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- ‘এভাবে কাঁদে না’, ‘গোপনে হিংসার কথা বলি’, ‘সূর্যাস্তে নির্মিত গৃহ’ ইত্যাদি। ছোটোদের জন্য ছড়ার বই- ‘ঝিকিমিকি ঝিরিঝিরি’, ‘ছড়া ৫০’, ‘আমপাতা জামপাতা’। প্রবন্ধগ্রন্থ- ‘কবিতা সহায়’। তিনি বর্তমানে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত।
১১. একটি বাক্যে উত্তর দাও :
১১.১ কবি কখন ছবি আঁকেন ?
উত্তর : কবি দুপুর বেলায় ছবি আঁকেন।
১১.২ কখন তাঁর ছড়া লেখার শুরু ?
উত্তর : বাতাস ঈষৎ কাঁপন দিলেই কবির ছড়া লেখার শুরু।
১১.৩ তিনটি শালিক কী করে?
উত্তর : তিনটি শালিক ঝগড়া থামায়।
১১.৪ কে অবাক তাকায় ?
উত্তর : চড়ুই পাখি অবাক তাকায়।
১১.৫ মাছরাঙা কী চায়?
উত্তর : মাছরাঙা তাদের নীল রং ধার দিতে চায়।
১১.৬ প্রজাপতিদের ইচ্ছা কী?
উত্তর : প্রজাপতিদের ইচ্ছা তাদের যেন এঁকে রাখা হয়।
১১.৭ গর্তে কে থাকে?
উত্তর : ইঁদুর গর্তে থাকে।
১১.৮ চাদের পুরু দুধের সর কোথায় জমে?
উত্তর : মাঠে চাদের পুরু দুধের সর জমে।
১১.৯ কারা, কোথায় অ-আ লিখছে?
উত্তর : জোনাকিরা বকুল গাছে অ-আ লিখছে।
১১.১০ কবি কোন বিষয়কে ‘পদক পাওয়া” মনে করেছেন?
উত্তর : কবি ছড়া লেখাকে ‘পদক পাওয়া’ মনে করেছেন।
১২. দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও :
১২.১ কবি যখন ছড়া লিখতে শুরু করেন তখন চারপাশের প্রকৃতিতে কী কী পরিবর্তন ঘটে ?
উত্তর : কবি যখন ছড়া লিখতে শুরু করেন তখন মাঠে পুরু চাঁদের দুধের সর জমে যায়। বাতাস ঈষৎ কাঁপন দেয়, জোনাকি বকুল গাছে অ-আ লিখতে শুরু করে প্রভৃতি প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটে।
১২.২ কবি যখন ছবি আঁকেন তখন কী কী ঘটনা ঘটে?
উত্তর : কবি যখন ছবি আঁকেন তখন তিনটি শালিক ঝগড়া থামায়, চড়ুই পাখি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, মাছরাঙা তাঁর নীল রং ধার দিতে চায়, এমনকি ইঁদুর গর্ত থেকে বেরিয়ে পিট পিট করে চায়।
১২.৩ ‘তিনটি শালিক ঝগড়া থামায়’– কোন কবির কোন কবিতায় এমন তিন শালিকের প্রসঙ্গ অন্যভাবে আছে?
উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘তিনটি শালিক ঝগড়া করে’ কবিতায় এমন তিন শালিকের প্রসঙ্গ অন্যভাবে আছে।
১২.৪ মাছরাঙা পাখি কেমন দেখতে? সে মৎস্য ভুলে যায় কেন?
উত্তর : মাছরাঙা পাখির ধারালো লম্বা ঠোঁট, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এবং গায়ে নীল, লাল, হলুদ প্রভৃতি রঙের ছটা। কবি ছবি আঁকছেন দেখে সে মৎস্য ভুলে যায়।
১২.৫ “রং-তুলিরা বেজায় খুশি আজ দুপুরে আমায় পেয়ে।” – কবির এমন বক্তব্যের কারণ কী ?
উত্তর : রং তুলিদের তুলির আচরে প্রকৃতি যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির নানা ছবি তারা আঁকছে। সেই আঁকা দেখে শালিক ঝগড়া থামিয়ে দিচ্ছে, চড়ুই অবাক হয়ে দেখছে। মাছরাঙা শিকার ভুলে গেছে। ইঁদুর গর্ত থেকে বেরিয়ে অবাক হয়ে দেখছে। এসব দেখে রং তুলিরা বেজায় খুশি।
১২.৬ “অ’ লিখছে ‘আ’ লিখছে’ – কারা কীভাবে এমন লিখছে? তাদের দেখে কী মনে হচ্ছে?
উত্তর : দশ জোনাকি একসাথে মিলে বকুল গাছে ‘অ’ ‘আ’ লিখছে।
তাদের দেখে মনে হচ্ছে তারার মেলা।
১৩. অনধিক দশটি বাক্যে উত্তর দাও :
১৩.১ ‘এই ছড়াতেই আজ আমাকে তোমার কাছে আনলো হাওয়া’—কাকে উদ্দেশ্য করে কবি একথা বলেছেন? কবির আঁকা এবং লেখা-র সঙ্গে এই মানুষটির উপস্থিতির সম্পর্ক এবং গুরুত্ব বিচার করো।
উত্তর : কবি তাঁর প্রিয়তমাকে উদ্দেশ্য করে একথা লিখেছেন।
কবির আঁকা ও লেখার সঙ্গে তাঁর প্রিয়তমার যোগ অবিচ্ছেদ্য। কবির কাব্য লেখার অনুপ্রেরণা তিনি। তিনিই কবির ছবি আঁকার উৎসাহ। কবি প্রকৃতির অনুষঙ্গে যেন তাঁর প্রিয়তমার মুখ দেখতে পান। এই প্রিয়তমাই যেন তাঁর কবিতায় ফুটে ওঠে। এভাবেই কবির আঁকা লেখার সঙ্গে এই মানুষটির সম্পর্ক যা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
১৩.২ এই কবিতায় যে যে উপমা ও তুলনা ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলি ব্যবহারের সার্থকতা বুঝিয়ে দাও ।
উত্তর : কবিতাটিতে দেখা যায় তিনটি শালিক ঝগড়া থামায়, চড়ুই পাখি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, শিকার ভুলে গিয়ে মাছরাঙা তাঁর নীল রং ধার দিতে চায়, আবার প্রজাপতি মনে মনে চায় তাকে আঁকা হোক। ইঁদুর গর্ত থেকে বেরিয়ে পিট পিট চোখে তাকিয়ে থাকে। মাঠে চাঁদের দুধের পুরু সর জমে যায়।
প্রভৃতি উপমা এবং তুলনা কবিতাটিকে সমৃদ্ধ করেছে । তাই নিঃসন্দেহে বলা যেতেই পারে উপমা এবং তুলনা ব্যবহার যথার্থ সার্থক।
১৩.৩ ছবি আঁকা, ছড়া/কবিতা লেখার মধ্যে তুমি নিজে কোনটা, কেন বেশি পছন্দ করো তা লেখো।
উত্তর : নিজে করো।
১৩.৪ তোমার নিজের লেখা ছড়া / কবিতা, নিজের আঁকা ছবিতে ভরিয়ে চার পাতার একটি হাতে লেখা পত্রিকা তৈরি করো। পত্রিকার একটি নাম দাও। তারপর শিক্ষিকা / শিক্ষককে দেখিয়ে তাঁর মতামত জেনে নাও ৷
উত্তর : নিজে করো।
আরো পড়ুন
গল্পবুড়ো কবিতার প্রশ্ন উত্তর | সুনির্মল বসু | Golpo Buro Kobita Question Answer | Class 5 | Wbbse
বুনো হাঁস প্রশ্ন উত্তর | লীলা মজুমদার | Buno Has Class 5 Question Answer | Wbbse
দারোগাবাবু এবং হাবু কবিতার প্রশ্ন উত্তর | Daroga Babu Ebong Habu Question Answer | Class 5 | Wbbse
এতোয়া মুন্ডার কাহিনী প্রশ্ন উত্তর | Etoya Mundar Kahini Question Answer | Class 5 | Wbbse
Note: এই আর্টিকেলের ব্যাপারে তোমার মতামত জানাতে নীচে দেওয়া কমেন্ট বক্সে গিয়ে কমেন্ট করতে পারো। ধন্যবাদ।