মাার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের প্রাথমিক শিক্ষার তুলনা বা বৈসাদৃশ্যগুলি আলোচনা করো

মাার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের প্রাথমিক শিক্ষার তুলনা বা বৈসাদৃশ্যগুলি আলোচনা করো

উত্তর :

ভারতে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার শুরু হয় 5 বছর বয়স থেকে। ভারতের প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতি খুবই ধীরগতিতে হচ্ছে। আমেরিকার ন্যায় আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষা সর্বত্র পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুব দুর্বল। তাছাড়া জনসংখ্যাও প্রচুর। উৎপাদনের তুলনায় ব্যয়-এর পরিমাণ বেশি। ফলে প্রাথমিক শিক্ষার মধ্যে ক্ষমতা আনয়ন সম্ভব হয়নি। আমেরিকার শিক্ষার আলােকে ভারতে শিক্ষার বিকাশে বিস্তর ফারাক আছে। এই পার্থক্যসমূহ নিম্নরুপ| 0 বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক : আমেরিকার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা রয়েছে। কিন্তু ভারতবর্ষে শিক্ষাব্যবস্থা বাধ্যতামূলক দূরের কথা অধিকাংশই প্রাথমিক শিক্ষার আলােতে পৌছাতে পারেনি।

সরকার পরিচালিত :

ভারতবর্ষের বেশিরভাগ নার্সারি বিদ্যালয় ও প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ব্যবহৃত স্কুলগুলি ব্যক্তিগত। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকার দ্বারা পরিচালিত বিদ্যালয়ের সংখ্যাই অনেক বেশি।

3) স্বাস্থ্য গঠন : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতাে ভারতে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে স্বাস্থ্য গঠন ও স্বাস্থ্যাভ্যাস তৈরি সুদুর পরাহত।

4) আহারের ব্যবস্থা : আমেরিকায় প্রাথমিক স্তরে দুপুরে শিশুদের মধ্যাহ্নভােজন ও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ভারতবর্ষে কাগজেকলমে তার ব্যবস্থা থাকলেও সবদিন আহারের ব্যবস্থা করা হয় না, আর স্বাস্থ্যকর আহারের জন্য প্রত্যেক ছাত্রপিছু যে অর্থ প্রয়ােজন হয় তা সরকার বরাদ্দ করে না। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা মধ্যাহ্ন আহার পেলেও তা সঠিক পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর কি না তা যথেষ্ট সন্দেহ থেকেই যায়।।

5) শিক্ষার্থীদের সাহায্যদান : আমেরিকায় দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্তরকম সাহায্য দেওয়া হয়। ভারতবর্ষে এই সুযােগ এখনাে সার করা সম্ভব হয়নি।

6) শিক্ষকের অভাব : আমেরিকার চেয়ে ভারতবর্ষে উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকের অভাব রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে অনভিজ্ঞ শিক্ষক রয়েছেন।

7) সহপাঠক্রমিক শিক্ষা : ভারতে আমেরিকার ন্যায় কোনাে সহপাঠক্রমিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন নেই।

8) পুঁথিকেন্দ্রিক : ভারতবর্ষের শিক্ষাব্যবস্থা কেবল পুঁথিকেন্দ্রিক কিন্তু আমেরিকায় এই ধরনের পুস্তককেন্দ্রিক ব্যবস্থা নেই।

9) শিক্ষা পরিবর্তনশীল : ভারতবর্ষের প্রাথমিক শিক্ষায় কয়েকটি মাত্র বিষয় নিয়ে গঠিত পাঠক্রম যা প্রায় অপরিবর্তনীয় কিন্তু আমেরিকার শিক্ষা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনশীল।

10) গণতান্ত্রিকতা : আমেরিকার ন্যায় ভারতবর্ষের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক ধারণা দেখা যায় না।

11) রাজ্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন : ভারতবর্ষের প্রত্যেক রাজ্যে ভিন্ন ধরনের প্রাথমিক শিক্ষা রয়েছে অর্থাৎ রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনাে সম্পর্ক নেই। কিন্তু আমেরিকাতে রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আছে।

12) রােগ প্রতিকার করা : ভারতে প্রাথমিক শিক্ষার্থীর রােগ নিরাময়ের কিংবা প্রতিষেধকের বিদ্যালয়ে কোনাে ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। অথচ আমেরিকায় এটি কঠোরভাবে পালন করা হয়।

13) মনােবৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অভাব : ভারতবর্ষের প্রাথমিক শিক্ষায় আমেরিকার ন্যায় মনােবৈজ্ঞানিক কোনাে ধারণা নেই।

14) বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অভাব : ভারতবর্ষে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান নিয়ে আলােচনার কোনাে ব্যবস্থা নেই।

15) পরীক্ষাকেন্দ্রিক : ভারতবর্ষে প্রাথমিক শিক্ষা পরীক্ষাকেন্দ্রিক। অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তা গ্রেডদানভিত্তিক। 

16) পরিবেশের অভাব : ভারতবর্ষে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপযুক্ত জায়গার অভাব অর্থাৎ আমেরিকার ন্যায় খােলামেলা পরিবেশের অভাব রয়েছে।। 

17) বৈচিত্র্যধর্মিতা : ভারতবর্ষে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠক্রমের মধ্যে বৈচিত্র্যধর্মিতা নেই। কিন্তু আমেরিকার পাঠক্রমে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য বিদ্যমান।

18) অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা : ভারতবর্ষ প্রাথমিক শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ার কারণ অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা, আমেরিকায় এই ধরনের সমস্যা নেই। 

19) শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক: আমেরিকার ন্যায় ভারতবর্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক প্রাচীন কাল থেকেই পিতা-পুত্রের মতাে, অর্থাৎ অনেক ভালাে।

20) সামাজিক শিক্ষা : ভারতবর্ষে প্রাথমিক স্তরে সামাজিক শিক্ষার কোনাে ব্যবস্থা নেই। আমেরিকায়-এর গুরুত্ব অধিক। 

সুতরাং লক্ষ্য করা যাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের প্রাথমিক শিক্ষার বেশ। কিছু পার্থক্য রয়েছে। তবে ধীরে ধীরে প্রত্যেক রাজ্যের সরকার যেভাবে প্রাথমিক শিক্ষার দিকে দৃষ্টিদান করছে এবং উন্নতি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে তাতে সমগ্র দেশের শিক্ষা যথেষ্ট উন্নতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

Note: এই আর্টিকেলের ব্যাপারে তোমার মতামত জানাতে নীচে দেওয়া কমেন্ট বক্সে গিয়ে কমেন্ট করতে পারো। ধন্যবাদ।

Leave a Comment