দশম শ্রেনী (মাধ্যমিক) ভারত ছাড়াে আন্দোলনে শ্রমিকদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করাে। ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি সম্বন্ধে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখাে

ভারত ছাড়াে আন্দোলনে শ্রমিকদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করাে। ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি সম্বন্ধে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখাে

ভারত ছাড়াে আন্দোলনে শ্রমিকদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করাে। ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি সম্বন্ধে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখাে। ৫ + ৩ Marks | Class 10

ভারত ছাড়াে আন্দোলনে শ্রমিকদের ভূমিকা : ১৯৪২-র ভারত ছাড়াে আন্দোলন ছিল স্বতঃস্ফূর্ত এবং একটি প্রকৃত গণআন্দোলন যেখানে সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও শ্রমিক শ্রেণিকে ত আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখা যায়নি। 

শ্রমিক শ্রেণির ভূমিকা : ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ভারত ছাড়াে আন্দোলনে শ্রমিকরা যেভাবে যােগদান করে তা হল

1 | দিল্লির ধর্মঘট : আন্দোলন শুরুর প্রাথমিক পর্বে দিল্লির ধর্মঘটী মিল শ্রমিকদের সঙ্গে সরকারি প্রশাসনের সংঘর্ষ ঘটলেও শেষপর্যন্ত। মিল শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে যায়।

2 | বিভিন্ন শহরের ধর্মঘট : গান্ধিজি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে কারারুদ্ধ করার প্রতিবাদে বােম্বাই, নাগপুর, আমেদাবাদ প্রভৃতি। শিল্পাঞলে শ্রমিকরা এক সপ্তাহ ধরে ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করে।। 

3 | জামসেদপুরে ধর্মঘট : জামশেদপুরে লৌহ ইস্পাত কারখানায় দুই মাস ধরে ধর্মঘট পালনের পাশাপাশি সেখানে জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি করা হয়। 

৪ | ব্যাঙ্গলাের ধর্মঘট : ব্যাঙ্গালােরে জাতীয়তাবাদী নেতা কে টি ভাষ্যমের নেতৃত্বে ৩০,০০০ শ্রমিক অল্প কিছুদিনের জন্য ধর্মঘট করে। 

৫ | কলকাতা ধর্মঘট : ভারত ছাড়াে আন্দোলনে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে কলকাতার শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘট সংঘটিত হলেও কলকাতা সংলগ্ন শিল্পাঞ্চল শান্ত ছিল।

উপসংহার : ভারত ছাড়াে আন্দোলনপর্বে শ্রমিক আন্দোলনের ব্যাপ্তি ছিল কম, কারণ এই আন্দোলনে ভারতের কমিউনিস্ট দল যােগ দেয়নি বা শ্রমিক শ্রেণিকে ভারত ছাড়াে আন্দোলনের সমর্থনে ধর্মঘট করার নির্দেশ দেয়নি। 

দ্বিতীয় অংশ : ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি : অসহযােগ আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়লে ভারতে শ্রমিক ও কৃষকদের। সংগঠিত করার লক্ষ্যে ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে গড়ে ওঠে ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি। শ্রমিক-কৃষকদের লক্ষ্যপূরণের উদ্দেশ্যে ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত ‘দি লেবার স্বরাজ পার্টি অব দ্য ইন্ডিয়ান “শনাল কংগ্রেস’-এর নাম পরিবর্তন করে পরবর্তীকালে মুজাফফর আহমেদ, কবি নজরুল ইসলাম, এস এ ডাঙ্গে, কুতুবউদ্দিন আহমেদ শং হেমন্ত কুমার সরকারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ‘পেজেন্ট অ্যান্ড থাকার্স পার্টি। ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় এর নাম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস্ পার্টি’ (Workers and Peasants Party) আত্মপ্রকাশ করে।

উদ্দেশ্য – ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টির উদ্দেশ্যগুলি হল — (১) শ্রমিকদের কাজের সময়সীমা নির্ধারণ ২) বাকস্বাধীনতা অর্জন, (৩) সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অর্জন, (৪) জমিদারি প্রথার বিলােপসাধন এবং (৫) সর্বনিম্ন মজুরি আইন প্রবর্তন ইত্যাদি।

আন্দোলন পরিচালনা : এই সংগঠনটি তার উদ্দেশ্যপূরণের লক্ষ্যে যে আন্দোলনগুলি চালিয়েছিল, জাতীয় কংগ্রেসও সেইসব আন্দোলনের প্রতি পরােক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে সহানুভূতি দেখিয়েছিল। কলকাতার ধাঁচে পরবর্তীকালে পাঞ্জাব ও বােম্বাই সমেত আরও অন্যান্য অঞ্চলে এইরূপ সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। তবে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে সংগঠনটি সাফল্য পেলেও কৃষকদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে সাফল্য ছিল ক্ষীণ।

Note: এই আর্টিকেলের ব্যাপারে তোমার মতামত জানাতে নীচে দেওয়া কমেন্ট বক্সে গিয়ে কমেন্ট করতে পারো। ধন্যবাদ।

Leave a Comment