আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে বিপিনচন্দ্র পালের ‘সত্তর বৎসর’-এর গুরুত্ব আলােচনা করাে।

আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে বিপিনচন্দ্র পালের ‘সত্তর বৎসর’-এর গুরুত্ব আলােচনা করাে।
অথবা,  বিপিনচন্দ্র পালের ‘সত্তর বৎসর’-এ ভারত ইতিহাসের কী কী উপাদান পাওয়া যায় ?
অথবা, স্মৃতিকথা রূপে বিপিনচন্দ্র পালের ‘সত্তর বৎসর ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

উত্তর:

গুরুত্ব : ১) “সত্তর বৎসর থেকে কলকাতার ছাত্রাবাসগলির পরিচলন ব্যবস্থা তথা তখনকার গণতান্ত্রিক ধ্যান ধারণার পরিচয় পাওয়া যায়।

২) বেঙ্গল থিয়েটার, ন্যাশনাল থিয়েটার প্রভৃতির প্রতিষ্ঠা, নীলদর্পনের মত স্বদেশপ্রেমী নাটকের উল্লেখ থেকে তৎকালিন বাংলাদেশের স্বদেশপ্রেমের কথা জানা যায়।

| ৩) হিন্দুমেলা, ভারতসভার উল্লেখ ‘সত্তর বৎসর’-এ আছে। এথেকে সেই সময়ে ভারতের জাতীয়তাবাদী প্রতিষ্ঠানের কথা জানা যায়।।

৪) স্মৃতিকথা হিসেবেও ‘সত্তর বৎসর’ সুখপাঠ্য। বিপিনচন্দ্র পালের শৈশব জীবনের নানান কথা এখানে বর্ণিত হয়েছে। বিশ্লেষণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে পাঠ করলে সেই সময়ের শিক্ষাব্যবস্থা, সমাজজীবন, সাংস্কৃতিক জীবনের নানা উপাদান, জাতি-ধর্ম ব্যবস্থার প্রকৃতি প্রভৃতির কথা জানা যায়। | ৫) এই গ্রন্থ থেকে তৎকালিন ইংরাজী শিক্ষিত বাঙালির নতুন সামাজিক আদর্শের সন্ধান পাওয়া যায়।

| তাই বলা যায় উনবিংশ-বিংশ শতাব্দীর ঔপনিবেশিক শাসনের ধ্বংসাত্মক দিক, ভারতবাসীর স্বদেশ প্রেম, সমকালের সমাজ, পরিবারচর্চা, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের নানা বিবরণ ‘সত্তর বৎসর’-এ স্থান পেয়েছে। কাজেই সত্তর বৎসর আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানকে সমৃদ্ধ করেছে একথা নিঃসন্দেহে। বলা যায়।

Read Also

নারী ইতিহাস চর্চার উপর সংক্ষিপ্ত টীকা রচনা করাে ?

আধুনিক ইতিহাস চর্চার উপাদানগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও?

আধুনিক ইতিহাসের উপাদানরূপে আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথার গুরুত্ব লেখাে?

ইতিহাসের উপাদান হিসাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনস্মৃতির অবদান?

আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে বিপিনচন্দ্র পালের ‘সত্তর বৎসর’-এর গুরুত্ব আলােচনা করাে।

Note: এই আর্টিকেলের ব্যাপারে তোমার মতামত জানাতে নীচে দেওয়া কমেন্ট বক্সে গিয়ে কমেন্ট করতে পারো। ধন্যবাদ।

Leave a Comment